Sunday, November 21, 2010

সময় ভাবনা

সময়কে চিন্থিত করার চেষ্টা মানুষের পুরানো। ইতিহাস, রাজনীতি, সমাজ, অর্থনীতি সব ৰেত্রেই সময়কে বিশেস্নষণ করতে গিয়ে প্রথমেই একে একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যে চিহ্নিত করা হয়। ইতিহাস ঘাটলে দেখা যাবে সমাজে যে বিষয়টি বস্তুগত সম্পদ এবং সেই সূত্রে মানসিক সম্পদের উপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে, সে বিষয়টি সে সময়টির একটা 'ব্র্যান্ড ইমেজ' তৈরিতে প্রধান ভূমিকা রেখেছে। এভাবে পৃথিবী সৃষ্টির শুরম্ন থেকে সময়গুলোকে কখোনো 'আইস এজ' পৃথিবীর বুকে মানুষের পদচারনা শুরম্নর সময়কে 'হোমোসিপিয়ন এজ' এভাবে চিহ্নিত করা থেকে সভ্যতার ক্রমবর্ধমান উৎকর্ষতার সময়গুলোকে 'স্টোন যুগ, ব্রোঞ্জ এজ' এভাবে চিনতে সমাজবীদ, ইতিহাসবিদরা পছন্দ করেছেন। গত শতাব্দীর তিরিশের দশককে মন্দার যুগ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়কে 'সস্নায়ুযুদ্ধের সময়', সত্তরের দশককে 'মহাকাল যুগ' বা 'স্পেস এজ' বলে বর্ণনা করা এ ধরনের চেষ্টার ও সাফল্যের আরো কিছু হালকা উদাহরণ। সত্তরের দশকের শেষ থেকে বিশ্ব একটি পরিবর্তনের দিকে যেতে থাকে। পশ্চিমা বিশ্বের শিল্পায়ন-উত্তর উৎপাদন প্রক্রিয়ার পুঁজিবাদের খোল নলচে পাল্টে যাওয়ায় এবং আধুনিকতার দুর্বলতা সমূহকে বিবেচনা করে বিশেস্নষকদের একটি নতুন যুগের আগমনী বার্তা ঘোষণা করতে উন্মুখ দেখা যায়। সত্তরের দশকে ডানিয়েল বেল একে বর্ণনা করেন 'পোস্ট ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল সোসাইটি' (শিল্পায়ত-উত্তর সমাজ) বলে। আশির দশকে জঁ ফ্রাসোয় লিয়োতার কাছে এ সময়টি 'পোস্ট মডার্ন কালচার' (উত্তর আধুনিক সংস্কৃতি)। পিটার ড্রাকার যুক্তি দেন আমরা আসলে 'পোস্ট ক্যাপিটালিস্ট', পুঁজিবাদ উত্তর বিশ্বের বাসিন্দা হতে চলেছি। অবশ্য এসব ভাবনা একাডেমিক চৌহদ্দি অতিক্রমে ব্যর্থ হয়। নব্বই এর দশকে এসে আমাদের পরিচয় হয় 'গেস্নাবালাইজেশন' বা 'বিশ্বায়ন' ভাবনার সাথে। যুক্তিটি ছিল পৃথিবীর বাসিন্দারা এখন একে অন্যের সাথে অনেক বেশি সংযুক্ত। তথ্য ও অর্থ দুইই আগের যে কোন সময়ের চাইতে অনেক দ্রম্নত চলাচলে সৰম। বিশ্বের এক প্রানত্দের তৈরি পণ্য বা প্রদেয় সেবা এখন অন্য প্রানত্দে সহজলভ্য। যোগাযোগ ব্যবস্থা আনত্দর্জাতিক পর্যায়ে অতি সহজ ও স্বাভাবিক বিষয়। এসব কিছুই এক নতুন সময়ের নতুন ধারণার ইঙ্গিত দেয়_ তা হলো বিশ্বায়ন। সময়কে নিয়ে এই চিনত্দা বা আইডিয়া উপর্যুপরি গবেষণায় সর্বব্যপ্ত রূপ লাভ করে এবং ক্রমান্বয়ে তা একটি আদর্শ বা আইডলজিতে রূপানত্দর হয় এবং এ সময়ের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশের সবটাতেই এই আদর্শ আরোপিত হয়। এ পর্যায়ে বিশ্বায়ন ভাবনার আদর্শিক ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায় 'বিশ্ববাদ' বা গেস্নাবালইজম। ইতিহাসের যে সময়টি আমরা এখন পার করছি তা 'বিশ্বায়নের যুগ' হিসেবেই ইতিহাসে চিহ্নিত হবে কিনা তা নিশ্চিত করে বলার সময় হয়তো এখনই নয়। কারণ বিশ্বে এখন আমরা আরো বেশকিছু বিষয়কে ইতিহাসের 'চারিত্র-লৰণ' হিসেবে দেখতে পাচ্ছি। এর মধ্রে অন্যতম হলো প্রযুক্তিগত বিপস্নব এবং গণতন্ত্রায়ন। আমরা আরো দেখতে পাচ্ছি সবৰেত্রেই গণমাধ্যম ও যোগাযোগ কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছে। বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যিক গণমাধ্যমের বিস্তৃতি এবং এসব মাধ্যমে ভোক্তা সংস্কৃতির প্রচার ছাড়া অর্থনৈতিক বিশ্বায়ন সম্ভব হতো না। প্রযুক্তিগত বিপস্নবের পেছনে রয়েছে ডিজিটাল যোগাযোগ ও কম্পিউটিং-এর অভাবনীয় অগ্রগতি। প্রযুক্তির মাধ্যমে তথ্যের দ্রম্নত প্রচার শাসকগোষ্ঠীর জন্য কোন গোপন নিপিড়নমূলক ব্যবস্থা অসম্ভব করে তুলেছে, যা গণতন্ত্রায়নের পথে অভূতপূর্ব উত্তরণ। বিশ্বায়নের অন্যতম আরেকটিৰণ হলো বিশ্ব বাজার, বাজারের বিশ্বায়ন। ফ্রিডম্যান অবশ্য স্বীকার করেছেন বাজার বিশ্বায়নের চেষ্টা পুঁজিবাদি আদর্শেরই নতুন পযর্ায়। ফ্রিডম্যান লিখেছেন যে, বিশ্বায়নের ধারণার পিছনে রয়েছে মার্কেট ক্যাপিটালিসম। তা যদি হয়, তাহলে অবশ্য বাজারের বিশ্বায়নকে পুঁজিবাদি ব্যবস্থার পূর্ববর্তী পর্যায়গুলো থেকে আলাদা করার সুযোগ থাকে না। কেননা বিশ্ববাজার ধারণার এই কথাটি কাল মার্কস ১৮৪০ সালেই উলেস্নখ করেছিলেন যে 'বজর্ুয়ারা প্রত্যেকটি দেশেই উৎপাদন ও ভোগকে বহুজাতিক চরিত্র দিয়েছে এবং জাতিসমুহের মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরতা তৈরি করেছে। ঘটনা যাই হোক, বিশ্ববাদের প্রবক্তারা এমন ধারণা দেবার চেষ্টা করেন যে বাজার বিশ্বায়নের এই প্রক্রিয়া শুরম্ন হয়েছে স্নায়ুযুদ্ধের অবসানের পর। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পশ্চিমা দেশগুলো আইএফএম এর মতো প্রতিষ্ঠান তৈরি করে আনত্দর্জাতিক অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণাধীন করে। এর সুফল হিসেবে পশ্চিমা দেশগুলো অব্যাহত প্রবৃদ্ধির মুখ দেখতে থাকে। এই প্রবৃদ্ধির মূল ভিত্তি ছিলো একদিকে শিল্পোন্নত বিশ্ব অন্যদিকে কাঁচামালের যোগানদার উন্নয়ণশীল দেশগুলো। এই বিভাজনের আওতায় পণ্য উৎপাদন প্রক্রিয়াটি বহুভাগে ভাগ হয়ে যায়। যেখানেই পুঁজি সুবিধাজনক অবস্থানে থেকে অধিকতর মুনাফা অর্জন করতে পারবে সেখানেই পণ্য উৎপাদনের জন্য কারখানাগুলো স্থাপন করা হয়। এতে করে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের আনত্দর্জাতিককরণ ঘটে। এই প্রক্রিয়ায় অংশিদার প্রত্যেকের মধ্যে তথ্য বিনিময় এক জরম্নরি বিষয় পরিণত হয়। সিদ্ধানত্দ গ্রহণ, বাসত্দবায়ন, কাঁচামাল সংগ্রহ ও উৎপাদন-প্রত্যেকটি অংশের সার্বৰনিক যোগাযোগই এই পদ্ধতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়। গেস্নাবালাইজেমের প্রবক্তরা এটা স্পষ্ট করেছেন যে গেস্নাবালইজম বোঝার জন্য আমাদের অবশ্যই এই যোগাযোগের দিকে নজর দিতে হবে। তাদের এই বক্তব্য খুবই সত্য। উন্নত বা উন্নয়নশীল যে কোন দেশের সাধারণ একজন নাগরীককে যদি প্রশ্ন করা হয়, এই সময়ের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য কি, তারা একবাক্যে জবাব দেবেন সহজে ও স্বল্পতম সময়ে অন্যদের সাথে যোগাযোগ করার সুবিধা। বিশ্বায়নের এই যোগাযোগ নির্ভরতা বিশ্বায়ন সম্পর্কে চলতি ধারণাকে একটু একটু করে বদলে দিচ্ছে এবং নতুন একটি ধরনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইন্টারনেটকে সামনে এনে ভাবলে একটা উদাহরণ পাওয়া যেতে পারে। ইন্টারনেট একদিকে যেমন গণমাধ্যম হিসেবে সমাজে নতুন মাত্রা যোগ করেছে আবার অন্যদিকে আনত্দর্জাতিক যোগাযোগের ধারণাটিও বদলে দিয়েছে। যোগাযোগের এই নতুন প্রযুক্তি ও পদ্ধতি আমাদের আত্ম পরিচয়ের নতুন ধারণারও জন্ম দিচ্ছে। আনত্দর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো, বিভিন্ন দেশের সাংস্কৃতিক কাঠামোকে বদলে দিতে চাইছে। প্রযুক্তি তথ্যের আদান প্রদানকে নতুন রূপ দিয়েছে। ব্যক্তি ও সমাজ জীবনের সর্বত্রই সম্পর্কের কারণে যোগাযোগ না_ যোগাযোগই সম্পর্ক সৃষ্টি করছে। তাই গেস্নাবালইজম তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিকে বিস্তৃত করেছে, নাকি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি গেস্নাবালইজমকে একটা নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে চাইছে তা বলার সময় হয়তো এখনো আসেনি। ইতিহাসবিদরা সময় চিহ্নিত করার প্রক্রিয়ায় এই সময়টিকে কিভাবে চিহ্নিত করেন তা দেখার জন্য আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম রইলো।

Tuesday, September 23, 2008

i decide to start blogin from today... but i have to write in my own language- Bangla. coz i acnt write or speake english fluently.

so, manush keno blog likhe...! diary lekhar moto bishoita to na! Diary lkhe manush gopone. nijer priojonkeo seta porte dei na. kintu blog to sobai pore...!!!

ghotona ta ki bujhte amar are kichu samoy lagbe. observe korte hobe ke, ki likhse setar opor.

tarpor ami nije lekha shuru korbo.

amar uddeshsho "nijeke khuoja" holeo seta kemon kore... ta pore bujha jabe.... aste aste....